বরিশাল নিউজ বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। তবে তার পদত্যাগ গ্রহণ করা হয়েছে কি না সে সম্পর্কে কিছু জানায়নি সংস্থাটি।
ডব্লিউএইচও'র মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসের কাছে বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর প্রকাশ করেছে।
এই সংস্থার ওয়েবসাইটে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক প্রধান হিসেবে এখনো তার নাম, ছবি এবং আগের নিয়োগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি রয়েছে।
সায়মা ওয়াজেদ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোটে ২০২৩ সালের নভেম্বরে সিয়ারো পরিচালক নির্বাচিত হন।ডব্লিউএইচও নির্বাহী বোর্ডের অনুমোদনের পর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন তিনি। ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ওই পদের মেয়াদ ছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বাংলাদেশের একটি কর্তৃপক্ষের কাছে তার বিরুদ্ধে আনা অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় পদত্যাগ করলেন তিনি।
তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে। ২০২৪ এর আন্দোলনে মেখ হাসিনার সরকার পতনের পর শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্য মন্তীসভার সদস্যসহ অনেকের নামে মামলা করে দুদক। এই মামলা ও তৎকালীন সরকারের আপত্তির কারনে সায়মা ওয়াজেদকে অবৈতনিক ছুটিতে পাঠানো হয়।
ডব্লিউএইচও সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে "চীনে তার সফরসংক্রান্ত বিষয়ে আর্থিক জালিয়াতি করার" এবং তার একাডেমিক যোগ্যতা সম্পর্কে ভ্রান্ত তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনে। ২০২৬ সালের তেসরা জুলাই ডব্লিউএইচওকে পাঠানো তার আইনজীবীদের একটি পৃথক চিঠিতে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
সায়মা ওয়াজেদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
একইসঙ্গে, বুধবারের পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ উল্লেখ করেছেন, তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একটি প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগ এনেছে ডব্লিউএইচও।
সায়মা ওয়াজেদ জানিয়েছেন, জাতিসংঘের এই সংস্থাটিতে যোগদানের আগেই এই জমিটি অধিগ্রহণ করেছিলেন তিনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় ওই জমিটি তিনি পেয়েছিলেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার জমা দেওয়া পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ লিখেছেন, "আমার অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার জন্য আমি আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছিলাম এবং সেটি সততার সঙ্গেই পালন করেছিলাম।"
"যেহেতু আপনি আমাকে আমার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা থেকে বিরত রেখে চলেছেন তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় আপনার নেতৃত্বের ওপর আমার আস্থা এবং বিশ্বাস হারিয়ে গেছে," লিখেছেন সায়মা ওয়াজেদ।
তিনি আরো লিখেছেন, "আপনার সিদ্ধান্তে আমাকে অবৈতনিক ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের পর এক বছর ধরে কোনো বেতন বা পারিশ্রমিক না পাওয়ায় আমার আর্থিক অবস্থা অসহনীয় হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে, আমি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।"
এর আগে, জুলাইতে এক চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদ আইনজীবীর মাধ্যমে চীন সফরে জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
সেসময় তিনি জানিয়েছিলেন, ওই ভুল প্রশাসনিক একজন কর্মকর্তা করেছিলেন। যিনি দৈনন্দিন বিল পরিশোধের আবেদনগুলো নিয়ে কাজ করতেন। ওই অর্থের পরিমাণ ছিল ৯০১ ডলার।
একইসঙ্গে, নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করার কথা ডব্লিউএইচও'র মহাপরিচালককে জানিয়েছিলেন।
সূত্র বিবিসি
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহীনা আজমীন ।। স্বত্ব © বরিশাল নিউজ ২০২৬
Developed By NextBarisal
মন্তব্য লিখুন